কড়া হাতে কোভিড ও ভোট হিংসা রুখবো: মমতা

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : তড়িঘড়ি শপথবাক্য পাঠ করে রাজভবন থেকে বুধবার (৫ মে) তৃতীয়বারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নবান্নে ঢুকলেন মমতা। তার অপেক্ষায় ব্যাপক তৎপরতা ছিল রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দপ্তরে।

কলকাতা পুলিশের ব্যান্ডের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। এরপর গার্ড অব অনারও দেওয়া হয় মমতা বন্দোপাধ্যায়কে।
তবে একটি পোডিয়ামও রাখা হয়েছিল। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্যও রাখতে পারেন ভেবে। কিন্তু সেখানে কোনো কথা না বলে নবান্নের ১৪ তলায় উঠে যান নিজের ঘরে। তারপরই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম প্রশাসনিক কাজ শুরু করেছেন।

তবে এদিন মমতা শপথ নেওয়ার পর রাজভবনে মমতা বলেছিলেন, আমাদের প্রথম কাজ কোভিড নিয়ন্ত্রণ করা। এবং দ্বিতীয় কাজ রাজ্যের ভোট হিংসাকে রোখা।

২ মে ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে হিংসা। সেখানে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০ বিজেপি এবং একজন তৃণমূল কর্মীর। জেলায় জেলায় বিজেপিকর্মীদের ঘর-বাড়ি, দোকান ভাঙা ও জ্বালানোর অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বিজেপির দাবি, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হোক রাজ্যে।

রাজ্যে গতকাল এসে পৌঁছেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পাশে আছি বার্তাও দেন। এরপরই বিজেপি সভাপতি বুধবার ধরনায় বসার কথা।

এদিন সকালে মিঠুন চক্রবর্তী টুইট করে বলেন, ভোটের পর থেকেই বাংলা জ্বলছে। দয়া করে এই হিংসা থামান। এই মুহূর্তে রাজনীতির চেয়ে মানুষের প্রাণের দাম বেশি। দয়া করে তাদের পরিবার-পরিজনদের কথা ভেবে হিংসা বন্ধ করুন।

এ বিষয়ে শপথ নেওয়ার সময় মমতা বলেন, কোথাও কোথাও ভোটের পরে গোলমাল হয়েছে। সব রাজনৈতিক দলকে বলব শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। বাংলা অশান্তি পছন্দ করে না। কেউ কোথাও অশান্তি করবেন না। কেই প্রতিহিংসাপরায়ণ হবেন না। হিংসা ছড়ালে সরকার কড়া পদক্ষেপে পিছপা হবে না।

রাজভবনে দাঁড়িয়ে রাজ্যপালের সামনেই মুখ্যমন্ত্রী ভোট পরবর্তী হিংসার জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেছেন। তার কথায়, গত কয়েক মাস রাজ্য প্রশাসন ভোটের কারণে কমিশনের নির্দেশে চলছিল। ফলে পুরো ব্যবস্থাটাই কার্যত ভেঙে পড়েছে। আজই প্রয়োজন মতো প্রশাসনিক রদবদল করবো।

বিকেলের পর সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছেন মমতা। এখন দেখার সেখান থেকে কী বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।