সীমান্তে সংঘর্ষ : ২ সৈন্য নিহতের কথা স্বীকার চীনের, দাবি ভারতের

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের সঙ্গে সংঘর্ষে নিজেদের দুইজন সৈন্য নিহত হয়েছে বলে স্বীকার করেছে চীন। দেশটি জানিয়েছে, ওই সংঘর্ষে তাদের একজন কমান্ডিং অফিসার ও একজন সৈন্য নিহত হয়েছে।

সেনা সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ তথ্য জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার ও টাইমস অব ইন্ডিয়া। সংবাদমাধ্যম দুটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, পূর্ব লাদাখে চুসুল সেক্টরে গতকাল সোমবার বৈঠকে বসে দু’দেশের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা। বৈঠকে তাদের দুইজন সৈন্য নিহতের বিষয়টি স্বীকার করেছে চীন।

বৈঠকের সূত্র বলছে, বৈঠকে অধিকৃত জমি না ফেরানোর প্রশ্নে অনড় থাকে চীন। জবাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় অস্ত্র ব্যবহারের নীতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়টি চীনকে জানিয়ে দেয় ভারত। সীমান্তের পরিস্থিতি ও বাহিনীর পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে আগামীকাল জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ যাওয়ার কথা রয়েছে সেনাপ্রধান এম এম নরবণের।

গত ১৫ জুন লাদাখে ভারত-চীন সীমান্তের গালওয়ান উপত্যকায় ভারতের সঙ্গে চীনা সেনাবাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ভারতের ২০ সেনা নিহত হন এবং ৭৬ সেনা এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরে ভারত দাবি করে, এ সংঘর্ষে চীনের ৪০ জন সদস্য সেনা নিহত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এতদিন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি চীন। অবশেষে দুইজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করল দেশটি।

ওই সংঘাতের জন্য নয়াদিল্লিকে দোষারোপ করে আসছে বেইজিং। সীমান্তে দুই পক্ষের প্রাণঘাতী সংঘর্ষ নিয়ে প্রথম সরকারি প্রতিক্রিয়ায় ভারতীয় সেনাদের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃত উস্কানির’ অভিযোগও তোলে চীন।

ভারতের এই দুই সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সংঘর্ষের এক সপ্তাহের মাথায় লাদাখে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে চুসুল-মলডো সীমান্তে সোমবার বৈঠকে বসেন ভারতের লেফটেন্যান্ট জেনারেল হরিন্দর সিংহ ও চীনের দক্ষিণ জিংজিয়াং মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের চিফ মেজর জেনারেল লিউ লিন। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয়ে বৈঠক চলে প্রায় ১১ ঘণ্টা।

বৈঠকে ভারত জানায়, গত ৪ মে-র আগে পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কোনো অনুপ্রবেশ হয়নি। সেই স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, চিনা সেনা প্যাংগং লেক ও ফিঙ্গার ফোর থেকে এইট এলাকায় যেভাবে স্থায়ী বাঙ্কার গড়তে শুরু করেছে, তাতে তারা সহজে ফিরে যাওয়ার জন্য আসেনি বলেই মনে হচ্ছে। এ ইস্যুতে চুপ থাকে চীন। উল্টে ভারতকে লাদাখ সীমান্ত থেকে সেনা সরানোর জন্য বৈঠকে চাপ দেয়া হয়। ভারত পাল্টা জানায়, গালওয়ানের মতো সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবে সেনা। এ নিয়ে আপত্তি জানায় লাল ফৌজ। এ বৈঠক আজও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।