ডাবল সেঞ্চুরি স্মিথের : রানের পাহাড়ে অস্ট্রেলিয়া

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : স্টিভেন স্মিথ যে কি জিনিস, হাড়ে হাড়ে টের পেলো ইংলিশ বোলাররা। জোফরা আর্চার তার ঘাড়ে বল লাগিয়ে এক ম্যাচ মাঠ থেকে দুরে রাখলেও, ফেরার ম্যাচে একের পর এক বাউন্সার দিয়েও স্মিথকে ঘায়েল করতে পারেনি। বরং, ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে উল্টো ইংলিশ বোলারদের ঘায়েল করেছেন স্মিথ এবং তুলে নিয়েছেন দুর্দান্ত এক ডাবল সেঞ্চুরি। সে সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াকে তুলে দিয়েছেন ৪৯৭ রানের চূড়ায়।

নিষেধাজ্ঞার কারণে এক বছর ক্রিকেটই খেলতে পারেননি। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এসে একের পর এক সেঞ্চুরি আর রানের বন্যা বইয়ে দিয়ে স্মিথ প্রমাণ করে চলেছেন, তাকে কোনোভাবে ক্রিকেট থেকে দুরে সরিয়ে রাখা ঠিক হয়নি। ২১১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে স্মিথ প্রমাণ করলেন টেস্ট ক্রিকেটে এখন তিনিই সেরা।

র্যাংকিংয়েও যার প্রভাব পড়েছে। দিন দু’য়েক আগেই বিরাট কোহলিকে টপকে উঠে এসেছেন আইসিসি টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষে। বৃহস্পতিবার ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ডাবল সেঞ্চুরি করে দলকে তুলে দিলেন রানের পাহাড়ে। পাশাপাশি চতুর্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিরাট কোহলিকে পিছনে ফেলে টেস্ট ক্রিকেটে ২৬তম শতরানটিও করে ফেললেন স্মিথ।

বৃষ্টি বিঘ্নিত ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে প্রথমদিন বল গড়িয়েছিল মাত্র ৪৪ ওভার। দ্বিতীয়দিন ৩ উইকেটে ১৭০ রান হাতে নিয়ে খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। প্রথমদিন শেষে ৬০ রানে অপরাজিত স্মিথ দ্বিতীয়দিন ইংলিশ বোলারদের রীতিমতো শাসন করে অ্যাশেজে তার ১১তম সেঞ্চুরিটি পূর্ণ করেন।

সে সঙ্গে ক্যারিয়ারে ২৬তম টেস্ট শতরানটি করে টপকে যান বিরাট কোহলিকে। ১২ ম্যাচ কম খেলেই (৬৭ ম্যাচ) ভারত অধিনায়ককে টপকে গেলেন সাবেক এই অসি দলনায়ক। ১১৮ রানের মাথায় স্পিনার জ্যাক লিচের নো-বলে আউট হয়ে জীবন ফিরে পান স্মিথ। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ডাবল সেঞ্চুরি করেই মাঠ ছাড়েন তিনি। এটা তার ক্যারিয়ারে আবার তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি এবং সবগুলোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।

ট্রাভিস হেড এবং ম্যাথু ওয়েডের সঙ্গে লম্বা পার্টনারশিপ গড়তে না পারলেও ষষ্ঠ উইকেটে অধিনায়ক টিম পেইনের সঙ্গে তার ১৪৫ রানের জুটিই অস্ট্রেলিয়াকে রানের পাহাড়ে তুলে দেন স্মিথ।

হাফ সেঞ্চুরি করে আউট হন পেইন (৫৮)। তবে থামানো যায়নি স্মিথকে। কামিন্স ৪ রানে ফিরলেও স্টার্ককে সঙ্গী করে টেস্ট ক্রিকেটে ব্যক্তিগত ডাবল সেঞ্চুরিটি। শেষ পর্যন্ত ২১১ রানে রুটের বলে জো ড্যানলির হাতে তালুবন্দি হন ৩০ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু ততক্ষণে রানের পাহাড়ে উঠে গেছে অসিরা। এরপর অষ্টম উইকেটে স্টার্ক-লায়নের ৫১ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি দলের রান পৌঁছে দেয় ৪৯৭-এ।

শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে পাঁচশো রানের দোরগোড়ায় পৌঁছে ইনিংস ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়া। ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন স্টার্ক, লায়ন করেন অপরাজিত ২৬। বিশাল রানের বোঝা মাথায় নিয়ে দিনের শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ইংল্যান্ডের রান ২৩।

উইকেটে রয়েছেন রোরি বার্নস (১৫) ও ক্রেইগ ওভার্টন (৩)। মাত্র ৪ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেন জো ড্যানলি। অর্থাৎ, তৃতীয় টেস্ট জিতে ইংল্যান্ড সমতায় ফিরলেও ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দ্বিতীয়দিনের শেষে স্কোরকার্ড বলছে চতুর্থ টেস্টে এখনও এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া।

প্রসঙ্গতঃ অ্যাশেজে ১১তম সেঞ্চুরি পূরণ করে মার্ক ওয়াকে পেছনে ফেললেন স্মিথ। সামনে এখন শুধুই জ্যাক হবস (১২) ও কিংবদন্তি স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান (১৯)।