সিলেটে পরিবহন ধর্মঘট : দুর্ভোগে দূরপাল্লার যাত্রীরা

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঘোরী মো. ওয়াসিমকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার ‘উদার’ পরিবহনের চালক ও সহকারীকে হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ সাত দফা দাবিতে সকাল-সন্ধ্যা পরিবহন ধর্মঘট চলছে সিলেট বিভাগে।
সিলেট সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে সোমবার সকাল থেকে এ ধর্মঘটের ফলে সিলেট বিভাগের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল না করায় দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রীরা।
সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সিলেট বিভাগীয় সভাপতি সেলিম আহমদ ফলিক বলেন, দুর্ঘটনার কারণে বাস চালক ও হেলপারের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে শ্রমিকদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু মামলার এজাহারে ৩০২ ধারা যুক্ত করা নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছি। ওই ধারা বাতিল, পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ সাত দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছে পরিবহন শ্রমিকরা।
ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারার বদলে ৩০৪ বি ধারা যুক্ত করা, সড়ক পরিবহন আইনের ১০৫ ধারায় জরিমানার পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার জায়গায় ৫০ হাজার টাকা করা, এক জেলার গাড়ি অন্য জেলায় রিকুইজিশন না করা, গাড়ি রিকুইজিশন সময় শ্রমিকদের খাবার ও জ্বালানি খরচ দেওয়া, সড়ক-মহাসড়কে তল্লাশির নামে গাড়ি থামিয়ে পুলিশি হয়রানি বন্ধ করা, রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা, ‘রেকারিংয়ের’ নামে পুলিশি হয়রানী বন্ধ করা এবং সড়ক-মহাসড়কে বিভিন্ন সেতুতে টোল আদায় বন্ধ করার দাবি রয়েছে ওই সাত দফার মধ্যে।
এসব দাবিতে সিলেট শহরের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, চণ্ডিপুর ও তেতলী এলাকায় সকালে পিকেটিং করেন শ্রমিকরা।
সকাল-সন্ধ্যা এই পরিবহন ধর্মঘটে মৌলভীবাজার জেলাতেও সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
গত ২৩ মার্চ সন্ধ্যার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর এলাকায় উদার পরিবহনের একটি বাসে চালকের সহকারীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ঘোরি মোহাম্মদ ওয়াসিম (২১)।
এক পর্যায়ে ওয়াসিমকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হলে চাকায় পিষ্ট হয়ে ওয়াসিমের মৃত্যু হয় বলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অভিযোগ।
ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় কুণ্ডু ২৫ মার্চ বাসের চালক, সহকারী ও সুপারভাইজারকে আসামি করে মৌলভীবাজার সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চালক জুয়েল ও তার সহকারী মাসুককে আটক করে। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।