মিয়ানমারের সঙ্গে কখনও সংঘাতে যাবো না : প্রধানমন্ত্রী

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : যেহেতু মিয়ানমার আমাদের একেবারেই প্রতিবেশী তাদের সঙ্গে কখনও সংঘাতে যাবো না। বরং তাদের সঙ্গে সংঘাত এগিয়ে জাতিগত নিধনের শিকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আলোচনার মাধ্যমে তাদের মাতৃভূমিতে ফেরানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে সেখানকার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা।
সর্বাত্মক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি থাকার ওপর গুরুত্বরোপ করে তিনি বলেছেন, কারো সঙ্গে যুদ্ধ করবো না, যুদ্ধ করতে চাই না। সবার সঙ্গে একটা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই। তবে প্রস্তুতি থাকতে হবে।
তিনি বলেছেন, জাতির পিতা যেই নীতিমালা দিয়ে গিয়েছিলেন- সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়। আমরা সেই নীতিতেই বিশ্বাস করি এবং সেই নীতিমালা নিয়েই আমরা চলছি।
এসময় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে পাঠানোর আগে সেনাদের প্রশিক্ষণের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সব হুমকি বা আক্রমণ প্রতিহত করার প্রস্তুতি থাকতে হবে।
তিনি বলেন, মানবিক কারণেই আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। মিয়ানমারের সঙ্গে আমরা ঝগড়া বাঁধাতে যাইনি। আমরা আলোচনা করেছি, চুক্তি সম্পন্ন করেছি। তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এদের (রোহিঙ্গা) তাদের দেশে ফেরত পাঠানো-ই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা এখনও কাজ করে যাচ্ছি।

১৯৭১ সালে পাক হানাদারদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া বাংলাদেশের শরণার্থীদের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা আছে। ১৯৭১ সালে আমাদের ১ কোটি মানুষ শরণার্থী ছিল। কাজেই তাদের নিয়ে এসে পুর্নবাসন করতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।
দুর্যোগ মোকাবেলা বাংলাদেশের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারি। সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। সেটা প্রাকৃতিক দুযোগ হোক আর মানুষ্য সৃষ্ট দুযোগ হোক যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করার শক্তি আমাদের আছে।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সামছুল হক, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়াসহ সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।