জিদানের সঙ্গে জয়েও ফিরলো রিয়াল মাদ্রিদ

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : জিনেদিন জিদানের হাতে সত্যিই কি জাদু আছে? আগেরবারও যখন কার্লো আনচেলত্তির হাত থেকে নিয়ে জিদানের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল রিয়ালকে, তখন মুহূর্তেই যেন দলটাকে আমুল বদলে দিয়েছিলেন তিনি। সেবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সম্ভাবনা থাকলেও এবার কিছুই নেই। রিয়ালের সামনে এখন শুধু সম্মান পূনরুদ্ধারের মিশন।

সে লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফায় পথচলাটা দারুণ হয়েছে রিয়ালের। ঘরে ফিরেই জয়টাকেও ঘরে ফিরিয়ে আনলেন জিদান। ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৪ ম্যাচ পর অবশেষে জয়ের দেখা পেলো লজ ব্লাঙ্কোজরা। সেল্টা ভিগোকে রিয়াল মাদ্রিদ হারিয়েছে ২-০ গোলের ব্যবধানে।

জিদান ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই পরিবর্তনটা চোখে পড়ছে। আগের কোচ সান্তিয়াগো সোলারির সঙ্গে মন কষাকষিতে একাদশ তো বটেই ম্যাচ স্কোয়াডেই জায়গা ছিল না ইস্কোর। একই সঙ্গে মার্সেলো, মার্কো আসেনসিও, গ্যারেথ বেল ও কেইলর নাভাসরাও ছিলেন দলের বাইরে। যদিও সেখানো কোনো না কোনো কারণ ছিল।

আসেনসিও চোটে পড়ে ফেরার কারণে তার জায়গায় লুকাস ভাসকুয়েজ। গ্যারেথ বেল এবং মার্সেলো ফর্ম হারিয়ে জায়গা হারান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং সার্জিও রেগুলিনের কাছে। নাভাসকে তো ছুঁড়েই ফেলে দেয়া হয়েছিল। বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া অনেক কষ্ট করে রিয়ালে এসেছেন। সে কারণেই হয়তো তাকে নিয়মিত গোলরক্ষক বানানো হয়েছিল আগের দুই কোচের আমলে।

জিদান দায়িত্ব নিয়েই নিজের একাদশকে খুঁজে নেন। ভাসকুয়েজ ও ভিনিসিয়ুসের চোট বেল এবং আসেনসিওর একাদশে আসাটা সহজ করে দিয়েছিল। নিষেধাজ্ঞার কারণে ছিলেন না কাসেমিরো। এ কারণে ট্যাকটিসে পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। সুযোগ পেয়ে যান ইস্কো। নাভাস ও মার্সেলো তার আগের সেরা একাদশে মূল নক্ষত্র। তাদের বাদ দিয়ে জিদান তো একাদশই কল্পনা করতে পারেন না। ফলে ফলটাও হাতেনাতে পেয়েছেন জিদান। দারুণ জয় নিয়ে ফিরেছে তার দল।

প্রথমার্ধে শুরুটা রিয়ালের ভালো হলেও গোলের সুযোগ পেয়েছিল সেল্টা ভিগো। ১৬ মিনিটে ছোট বক্স থেকে জোরালো হেড করেছিলেন ম্যাক্সি লোপেজ। দারুণ রিফ্লেক্সে বলটা আটকে দেন নাভাস। ৩০ মিনিটে বেলের শট ক্রসবারে না লাগলে এগিয়ে যেতে পারত রিয়াল। প্রথমার্ধের শেষভাগে জালে বল পাঠিয়েছিল রিয়াল। কিন্তু গোলের আগমুহূর্তে বেলের ফাউলে সেটা বাতিল হয়।

৫৫ মিনিটে মদ্রিচ আবারও জালে বল পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু এবার ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিংয়ের (ভিএআর) সহযোগিতায় গোল বাতিল করে দেন রেফারি। এরপর ৬২ মিনিটে ডান প্রান্তে বল পেয়ে একাই সেটা নিয়ে ছুটলেন আসেনসিও।

বক্সের কাছে এসে ফাউলের শিকার হলেও দারুণ এক থ্রু দিলেন বেনজেমাকে। বেনজেমার কাটব্যাক থেকে দলকে এগিয়ে দিলেন ইস্কো। গত বছর অক্টোবরের পর লা লিগায় প্রথমবারের মতো মূল একাদশে জায়গা পেয়ে গোল পেলেন তিনি।

৭৭ মিনিটেও আরেকটি প্রত্যাবর্তনের গল্প। সোলারির অধীনে নিজের স্বভাবজাত আক্রমণাত্মক ধারও কীভাবে যেন হারিয়ে ফেলেছিলেন মার্সেলো। সেই মার্সেলোই আজ দুর্দান্ত খেলেছেন। তারই সৃষ্টি করা সুযোগ থেকে মাদ্রিদ ক্যারিয়ার পুনর্জীবিত করলেন বেল। ৭৭ মিনিটের এ গোলের পরও গোলের বেশ কিছু সুযোগ সৃষ্টি করেছে রিয়াল। তবে আর গোলের ব্যবধান বাড়েনি।