শিশু ধর্ষণ ও হত্যা আইন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায়

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার কোন আইনে, কোন আদালতে হবে, তা স্পষ্ট করতে আইনটির সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা অগ্রগতি প্রতিবেদন দিয়েছেন হাইকোর্টে।

আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রতিবেদনের এ তথ্য তুলে ধরেন আইনজীবী আশিকুর রহমান। এরপর মামলার শুনানির জন্য ২৫ মার্চ পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আদালত।

রবিবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই দিন ঠিক করে আদেশ দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহবুব মোর্শেদ।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে ভেটিংকৃত (নিরীক্ষিত) ‘শিশু (সংশোধন) আইন, ২০১৮’ এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। শিশু (সংশোধন) আইন-২০১৩’ এর সংশোধনের বিষয়ে সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবহিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হল।’

পরে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহবুব মোর্শেদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৩ সালে প্রণীত শিশু আইনের অস্পষ্টতা দূরীকরণে কি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা সমাজকল্যাণ সচিবকে লিখিতভাবে আদালতকে জানাতে বলা হয়েছিল।

আজ সচিবের পক্ষে আইনজীবী আশিকুর রহমান আদালতকে জানিয়েছেন, খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে পাঠানো হয়েছে। আদালত তখন চলতি অধিবেশনেই যেন সংশোধনিটা পাস হয় সে বিষয়ে তাগিদ দিয়ে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বিষয়টি মুলতবি রেখেছে।

মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এ ব্যাখ্যা উপস্থাপনের পর আদালত বলেন, আমরা ভেবেছিলাম চলতি অধিবেশনে আইনটা পাস হবে। কিন্তু যেভাবে এগুচ্ছে তাতে চলতি অধিবেশনে তা পাস হবে কিনা। কবে মন্ত্রিপরিষদে যাবে, কবে পাস হবে! অথচ আইনটির অস্পষ্টতা দূর করতে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।

এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি আইনটির অস্পষ্টতা দূর করতে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

জানা যায়, ঢাকা, কক্সবাজার ও রংপুরে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত পৃথক চারটি মামলার আসামিরা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন জানান। এসব মামলার সব আসামি প্রাপ্তবয়স্ক। শিশু আদালত এসব প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের জামিনের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করায় হাইকোর্ট রুল জারি করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চারটি আদালতের বিচারকরা নিজ নিজ ব্যাখ্যা লিখিতভাবে আদালতে দাখিল করেন।

ব্যাখ্যায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দ্য চিলড্রেন অ্যাক্ট, ১৯৭৪’ এর বিধান অনুযায়ী যেসব মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা ভিকটিম শিশু ওইসব মামলা বিচারের জন্য কিশোর আদালতে পাঠানো হতো।

আর যেসব মামলার কেবল অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু, ওই সব মামলার অপরাধ আমলে নেওয়ার পর মামলাটি বিচারের জন্য কিশোর আদালতে পাঠানো হতো। কিন্তু ‘শিশু আইন, ২০১৩’ এর ১৭(১) ধারার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে। কারণ ওই ধারায় বলা হয়েছে, ‘আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু বা আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু কোনো মামলায় জড়িত থাকলে যেকোনো আইনের অধীনেই হোক না কেন, ওই মামলা বিচারের এখতিয়ার কেবল শিশু আদালতের থাকবে।

তবে আইনের ধারা ১৮, দফা-(ক) এ শিশু আদালতকে ফৌজদারি কার্যবিধির দায়রা আদালতের ক্ষমতা দেয়া হলেও ওই আইনে শিশু আদালতকে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’ এর কোনো ধারার অপরাধ আমলে নেয়া কিংবা বিচারের সুনির্দিষ্ট এখতিয়ার দেয়া হয়নি। শিশু আইনের ৩৩(১) ধারা অনুসারে শিশু আদালত অভিযুক্ত কোনো শিশুকে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিতে পারবেন।

গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্ট শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার কোন আইনে, কোন আদালতে হবে, তা স্পষ্ট করতে শিশু আইন-২০১৩ সংশোধনে সরকারকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেয়। ১৫ জানুয়ারি আইন মন্ত্রণালয় জানায়, আইনটির সংশোধনের খসড়া সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পরে ১২ ফেব্রুয়ারি আদালত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অগ্রগতি জানাতে বলে রোববার আদেশের জন্য রাখে। সে অনুযায়ী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় লিখিত অগ্রগতি প্রতিবেদন দিলে আদালত ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বিষয়টি মুলতবি রাখে।

Be the first to comment on "শিশু ধর্ষণ ও হত্যা আইন চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায়"

Leave a comment

Your email address will not be published.




4 + two =