বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশের ফাইনাল আগেই নিশ্চিত হলেও শ্রীলঙ্কার জন্য ম্যাচটি ছিল বাঁচা-মরার। হারলে তাকিয়ে থাকতে হত নানা হিসেব-নিকেশের দিকে। তবে সেই পথে হাঁটল না লঙ্কান বাহিনী।

দুই দলের প্রথম দেখায় বাংলাদেশ পেয়েছিল ওয়ানডেতে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয়। ১০ উইকেটের জয়ে তার বদলা নিয়ে ফাইনালে পৌঁছাল শ্রীলঙ্কা।

ওয়ানডেতে দ্বাদশবারের মতো ১০ উইকেটে হারল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার কাছে এনিয়ে তৃতীয়বার।

শুরুর জুটি ১১.৫ ওভারে জয় এনে দেয় শ্রীলঙ্কাকে। উপুল থারাঙ্গা অপরাজিত থাকেন ৩৪ রানে। দানুশকা গুনাথিলকা ৪০ রানে।

২২৯ বল বাকি রেখে জিতল শ্রীলঙ্কা। দুই দল মিলিয়ে ম্যাচ স্থায়ী হল ৩৫.৫ ওভার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শ্রীলঙ্কা: ১১.৫ ওভারে ৮৩/০ (গুনাথিলকা ৩৯*, থারাঙ্গা ৩৫*; মাশরাফি ০/১৫, হাসান ০/২৫, নাসির ০/১৯, মুস্তাফিজ ০/১৪, সাকিব ০/১০)
ব্যাটিংয়ে তালগোল পাকানো বাংলাদেশ বোলিংয়ে ভালো শুরু পায়নি। ৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৫ ওভারে ৩৪ রান তুলে ফেলেছেন শ্রীলঙ্কার দুই ওপেনার উপুল থারাঙ্গা ও দানুশকা গুনাথিলকা।

নাসির হোসেনের করা পঞ্চম ওভারে তামিম ইকবালকে দুরূহ সুযোগ দিয়ে বেঁচে যান থারাঙ্গা। একটি ছক্কায় ১৫ রানে ব্যাট করছেন তিনি। ফিল্ডিংয়ে দারুণ একটি দিন কাটানো গুনাথিলকা খেলছেন তিনটি চারে ১৭ রান নিয়ে।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে লঙ্কান বোলিং তোপে মাত্র ৮২ রানেই অলআউট হয়ে গেছে মাশরাফি বাহিনী। ফাইনালে যেতে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে ৮৩ রান।

মিরপুরের শেরে বাংলায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিদায় নেন বিজয়। ঘরোয়া লিগে দুর্দান্ত পারফরমেন্স করে আবার জাতীয় দলে ফেরা বিজয় টানা চতুর্থ ম্যাচেও ব্যর্থতার বৃত্তেই বন্দি হন। সাজঘরে ফিরে গেছেন কোন রান না করেই।

দ্বিতীয় উইকেটে ব্যাট করতে এসে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক হয়ে খেলতে থাকে সাকিব। তবে খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি। সুরঙ্গা লাকমলের বল ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ঠেলে দিয়ে রান নিতে ছুটেন তামিম ইকবাল। একটু দেরিতে সাড়া দিয়ে ছুটেন সাকিব। গুনাথিলাকার থ্রু সরাসরি স্ট্যাম্পে লাগলে দুই চারে ৮ রানেই থামে সাকিবের ইনিংস।

সাকিবের পর দ্রুত বিদায় নেন তামিমও। সুরঙ্গা লাকমলের অফ স্টাম্পের বাইরের একটু লাফিয়ে উঠা বল তামিম ঠিক মতো খেলতে পারেননি। ব্যকওয়ার্ড পয়েন্ট থেকে খানিকটা দৌড়ে ঝাঁপিয়ে দুই হাতে ক্যাচ মুঠোয় নেন গুনাথিলাকা।

তামিমের বিদায়ের পর দলের বিপদে হাল ধরতে পারলেন না মাহমুদউল্লাহ। ব্যক্তিগত ৭ রানে লাকমলের শর্ট বলে ক্যাচ দিলেন ফাইন লেগে। সহজেই তা তালুবন্দি করেন সীমানায় থাকা একমাত্র ফিল্ডার চামিরাকে।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর উইকেটে আসেন সাব্বির। আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ সাব্বিরের সামনে আজ সুযোগ ছিল দলের হাল ধরার। তবে আজও ব্যর্থ হন এই তারকা। থিসারা পেরেরার ফুলার ডেলিভারি মিড অনের ওপর দিয়ে ওড়াতে গিয়ে মাদুশানাকাকে ক্যাচ দেন সাব্বির। তিন বছর পর জাতীয় দলে ফেরাটা রাঙাতে পারেননি আবুল হাসান রাজুও। পেরেরার বলে সাজঘরে ফেরার আগে করেন মাত্র ৭ রান।

জীবন পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি মুশফিকুর রহীম। ঈদলের বিপদের সময়ে বাজে শটে দুশমন্থ চামিরার বলে মেন্ডিসকে ক্যাচ দেন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। সর্বোচ্চ ২৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। শেষ দিকে নাসির (৩), মাশরাফি (১) ও রুবেল (০) কেউ দাঁড়াতে না পারলে মাত্র ৮২ রানেই থামে টাইগারদের ইনিংস।

বাংলাদেশ দল : তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মর্তুজা, আবুল হাসান রাজু, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন।

শ্রীলঙ্কা দল : উপল থারাঙ্গা, দানুষ্কা গুনাথিকালা, দীনেশ চান্ডিমাল, ডিকভেলা, কুশল মেন্ডিস, আসলে গুনারত্নে, থিসারা পেরেরা, আকিলা ধনঞ্জয়া, সুরাঙ্গা লাকমল, লাকশান সান্দাকান, চামেরা।

Be the first to comment on "বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা"

Leave a comment

Your email address will not be published.




16 − seven =