নির্বাচনী রোড ব্লক করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে দেয়া বিএনপির ২০ দফা প্রস্তাব নির্বাচনী রোডম্যাপ বাস্তবায়নের নয় বরং তা নির্বাচনী রোড ব্লক (বাধাগ্রস্থ) করার প্রস্তাব বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন কমিশনে ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে। সেই বিষয়ে কথা বলতে আপনাদের সঙ্গে মিলিত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপির প্রস্তাব নির্বাচনের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য নয়, বরং তা নির্বাচনী রোড ব্লক করার জন্য প্রণীত হয়েছে। অনেক প্রস্তাব প্রস্তাব অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক। এবং এটা অযৌক্তিক-অস্বাভাবিক প্রস্তাবের পাহাড় মাত্র। বিএনপিরও ২০ দফা প্রস্তাবের বেশির ভাগ আরপিও (গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ) পরিপন্থী ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে আলোচনা করতে করতে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে বিএনপির ২০ দফা প্রস্তাবে এমন সব অযৌক্তিক প্রস্তাব আছে যে, নির্বাচন করার ৬ মাস আগে থেকে বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ, ব্যাংক, ব্যবসা-বাণিজ্য সব বন্ধ করে দিতে হবে। এমন সব প্রস্তাব সেখানে করা হয়েছে।’

‘বিএনপি এই প্রস্তাবের আড়ালে নির্বাচনী রোডম্যাপ বাস্তবায়নের আলোচনাটা ধামাচাপা দিয়েছে এবং বিভ্রান্তির জাল তৈরির চেষ্টা করেছে। আগামী নির্বাচন বানচাল করাই বিএনপির লক্ষ্য।’

ইনু বলেন, ‘বিএনপি প্রস্তাবে নির্দলীয় সহায়ক সরকার, সংসদ বাতিল এবং সশস্ত্র বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা বা ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়ার কথা বলেছে। নির্দলীয় সহায়ক সরকার সংবিধানের মূল নির্দেশনা কাঠামোর সঙ্গে যায় না। কিন্তু নির্দলীয় সরকার ও সশস্ত্র বাহিনী মাঠে থাকলে নির্বাচনী ফল বিএনপি মেনে নেবে কি না সেই গ্যারান্টি নেই। কারণ বিএনপি জিতলে নির্বাচন সঠিক মনে করে, হারলে সেই নির্বাচন গ্রহণ করে না।’

সশস্ত্র বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে একটি চক্রান্তমূলক প্রস্তাব হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি সশস্ত্র বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রস্তাব। সশস্ত্র বাহিনীর যে কাজ সেই কাজের বাইরে তাকে ন্যস্ত করার সুগভীর চক্রান্ত ছাড়া কিছু নয়।’

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্বাচনের সময় ৩০০ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেন হাইকোর্ট। এর বাইরে প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায় ন্যূনতম ৪ জন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকে। এরপরও সশস্ত্র বাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা দেয়ার প্রস্তাব অযৌক্তিক ও অবান্তর।’

‘বিএনপি নির্বাচনের লক্ষ্যে স্থির নয়, তারা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে। এজন্য নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচনের পদ্ধতি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টা তারা ঝুলিয়ে রাখতে চাচ্ছে, এজন্য বিভিন্ন সময়ে তারা কথা পাল্টায়। এখনও সেই অবস্থায় তারা আছে,’ বলেন জাসদ একাংশের সভাপতি ইনু।

নির্বাচনকালীন সরকারের সময় কেন সংসদ ভেঙে দেয়া হবে না- সেই ব্যাখ্যা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধ ঘোষণার এখতিয়ার কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নেই। তখন সংসদকে ডাকতে হয়। নির্বাচনের সময় সংসদ বহাল থাকলেও এর কোনো কাজ নেই, ভূমিকা নেই।’

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহারও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Be the first to comment on "নির্বাচনী রোড ব্লক করার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী"

Leave a comment

Your email address will not be published.




2 × one =