মম-শুভ’র মন ছুঁয়ে দেয়ার গল্প…

Print Friendly, PDF & Email

[ A+ ] /[ A- ]

নিউজ ডেস্ক:

১০ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে শিহাব শাহীন পরিচালিত প্রথম ছবি ‘ছুঁয়ে দিলে মন’। এ ছবির বিশেষত্ব হলো -এটি ‘আরেফিন শুভ ও মম’ জুটির প্রথম ছবি। বছরের প্রথম এ ছবি নিয়ে দর্শকের আগ্রহের শেষ নেই। চলচ্চিত্রটি নিয়ে আরেফিন শুভ ও মম’র মুখোমুখি হয়েছিলো প্রিয়.কম। সঙ্গে ছিলেন এ চলচ্চিত্রের নির্মাতা শিহাব শাহিন। তিনজনের সঙ্গে এ আড্ডা নিয়ে লিখেছেন সুকন্যা সই

আগামী ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ । কিন্তু বৈশাখের আনন্দ যেনো তাদের জন্য শুরু হয়ে যাচ্ছে ৪দিন আগেই। আরেফিন শুভ, মম এবং পরিচালক শিহাব শাহীনের সঙ্গে কথা বলে এমনই মনে হলো। কারণ ২৬ চৈত্র অর্থাৎ ১০ এপ্রিল সারাদেশব্যাপী প্রায় ৬০টির ও বেশি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ‘ছুঁয়ে দিলে মন’। এ নিয়ে অপেক্ষা যেন আর সইছে না তাদের। বলার অপেক্ষা রাখে না-পহেলা বৈশাখ কে লক্ষ্য করে ছবিটি মুক্তি পাওয়ায় সবাই খুব খুশি।

মম’র ভাষায় ছবিটি সহজ সরল এক প্রেমের গল্প নিয়ে। প্রথম প্রেম। আর এ প্রেম বছরের শুরুতেই সবাইকে ছুঁয়ে যাক তাই চান তিনি। কারণ এ মুহুর্তে হরতাল অবরোধে থমকে যাওয়া দেশের জন্য জেগে ওঠার একমাত্র মন্ত্র হল- প্রেম। হানাহানি, রেষারেষি ভুলে সবাই এক হলেই দেশ ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আরেফিন শুভ বর্তমানে ব্যাস্ত অ্যাকশন ছবি নিয়ে। অথচ এ ছবির প্রসঙ্গ ওঠতেই তার চোখমুখ রোমান্টিক হয়ে ওঠল। স্বীকার করলেন প্রেম-প্রীতির কথা। সম্প্রতি বিয়ে করেছেন বলে কথা! রোমান্টিক আবহ তো থাকছেই। তার কথা হলো- অ্যাকশন ছবি করলেও বছরের শুরুতে প্রেমের ছবি মুক্তি পাওয়া ভালো। কারণ উৎসবে সবাই চায় শান্তি। আর এ ছবিটি শান্তির। মূলত উৎসবকে মাথায় রেখেই এ ছবি। যেহেতু ভালোবাসা দিবসে মুক্তির কথা ছিল। তবে মনে হচ্ছিল বৈশাখের সঙ্গেই ছবিটি বেশি মানানসই। একইসঙ্গে পরিচ্ছন্ন গল্প এবং ভালোবাসা দর্শককে আকৃষ্ট করবেই।

আর পরিচালক শিহাব শাহিনের মতে. এটি একটি রোমান্টিক বিনোদনমহৃলক ছবি। তবে বাণিজ্যিক ছবি বলে যে ধারণা তা নয়। দেশের সার্বিক বিবেচনায় আমরা একটি সহজ গল্প বলতে চেয়েছি। একজন পেশাজীবি সংগীতশিল্পী ও কলেজ ছাত্রীর প্রেম নিয়ে মূলত গল্প। নীলা এবং আবির নামের দুজন মানুষের কাছে আসার গল্প। একটি মফস্বলের মতো শহরে তাদের প্রথম প্রেমের গল্প। যা প্রথম প্রেমের মতোই সবার মন ছুঁয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

ছবিটির সাফল্য নিয়ে সবার প্রচণ্ড আশাবাদ। তার পেছনে অবশ্য কারণ রয়েছে। মম ফেসবুকে ছবির একটি গানকে বলেছেন ‘সরি সং’। ‘চলতে চলতে তোমায় দেখি’ শিরোনামে গানটি সোমেশ্বর অলির লেখা। গেয়েছেন ইমরান ও কণা। গানটি ইতিমধ্যেই দারুণ জনপ্রিয়। এছাড়া তাহসান এবং শাকিলার গাওয়া ছবির টাইটেল গানটির জুড়ি নেই। এরইমধ্যে সবার মুখে মুখে। পাশাপাশি রয়েছে ছবিটির নানামুখী প্রচারণা। বিশ্বকাপজুড়ে ছবিটি নিয়ে আলোচনা, ব্যতিত্রক্রমী পোষ্টার, বিলবোর্ড, রেডিও আপডেটের পাশাপাশি ২৭ নভেম্বর অডিও সিডি প্রকাশ। তাছাড়া ঢাকার বিভিন্ন হলসহ সিলেট ও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি হলে গিয়ে ছবি দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তবে শিহাব শাহিন মনে করেন, ছবির মূল আকর্ষণ লুকিয়ে আছে নির্মাণে।

চিত্রায়নের সময়কার কিছু ঘটনা স্মরণ করলেন এ তিনজন।

সিলেটে চিত্রায়নের সময় পুরো একদিনের জন্য হাজির করলেন ৬ বগির একটি ট্রেন। আর এজন্য সরকারি একটি ট্রেনের নামই হয়ে গেল ‘শুটিং ট্রেন’। আর ট্রেনের ড্রাইভার যখন বারবার নির্দেশকের কথামতো ট্রেন চালাচ্ছিল, সবাই তো ভেবেই বসলো-ট্রেনটি পরিচালকের।

আর সিলেট, ছাতক, জাফলং, শ্রীমঙ্গল, কোতোয়ালী, চট্টগ্রাম সহ যেখানেই তারা গিয়েছেন, হাজারো দর্শকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন তারা। তাদের এ ভালোবাসা দেখেই শক্তি পেয়েছেন নির্দেশক। শুভ জানালেন, একটি ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের কথা। প্রায় ২০ ফুট লম্বা এবং ৬ ফুট আয়তনের একটি লোহার ফেদ্ধমের ভেতর দিয়ে সরাসরি বের হয়ে আসতে হয়েছে তাকে। ভয় লাগলেও পরে দারুণ কিছু ইফেক্ট দেখে নিজের ভেতর অনুভব করেছিলেন শান্তি।

ধ্বনিচিত্র ও মন ফড়িংয়ের যৌথ প্রযোজনায় এ ছবিটি প্রযোজনা করেছেন সারা জাকের। এর বাইরে এ ছবিতে প্রথমবারের মতো খল চরিত্রে অভিনয় করছেন ইরেশ যাকের। এছাড়াও ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় হাজির হয়েছেন নওশাবা ও সুষমা। থাকছেন আলীরাজ, মিঠু সওদাগর, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, খালেকুজ্জামান প্রমুখ।

আরেকটি আশার কথা হলো, এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বিদেশি ছবির প্রচার। দর্শক না পেয়ে নিজ থেকেই হল মালিকরা বল্পব্দ করে দিতে বাধ্য হয়েছে বাইরের ছবিগুলো। তাই অন্যভাবে বলতে গেলে,‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ছবিটির খুব বেশি প্রতিযোগী নেই। সামাজিক মাধ্যমে দর্শক ছবিটির ভবিষ্যৎ সাফল্য নিয়ে আশা পোষণ করেছেন। নাম না জানা প্রায় অর্ধশতাধিক দর্শক পোষ্ট শেয়ার করেছেন। সবগুলো লাইক কমেন্ট হিসেব করলে তা প্রায় লক্ষ্যাধিক হবে।

জাকিয়া বারী মম দর্শকমনে একটি আলাদা আসন সব সময় দাবি করেন। প্রথম বাণিজ্যিক ঘরানার ‘প্রেম করবো তোমার সাথে’ ছবিটি ব্যবসাসফল ছবি। সে ছবিতেই দর্শক হৃদয়ে আসন করে নিয়েছেন তিনি। ইউটিউবে তার নতুন ছবিটি নিয়ে এরইমধ্যে তার ভক্তরা নানানভাবে জানাচ্ছেন। সবাই অধীর হয়ে অপেক্ষা করছেন প্রিয় এ অভিনেত্রীকে আবারও বড়পর্দায় দেখার।

আর আরেফিন শুভ এ যুগের নায়কদের মধ্যে নিঃসন্দেহে অগ্রগণ্য। তার ‘অগ্নি’ দারুণ ব্যবসা সফল। সে হিসেবে বিয়ের পর এবারের তার প্রথম প্রত্যাবর্তন। এ ছবির মাধ্যমেই প্রমাণ হবে ‘বিয়ে’ নামক শব্দটি তার জীবনে ‘শুভ’ না ‘অশুভ’। তবে নামের বিপরীত কোন অর্থ নিয়ে ভাবছেন না শুভ। হাসিমুখে সাফল্যের কথাই বলছেন। এখন বাকি টা সময়ের অপেক্ষা।

আর এ অপেক্ষা নির্মাতা শিহাব শাহিনের জন্যেও। কারণ ছোটপর্দায় তিনি সফল নির্মাতা হলেও বড়পর্দায় এ প্রথম। ২০০১ সাল থেকে ছোট পর্দায় কাজ করছেন তিনি । তার আরেফিন শুভ কে নিয়ে নির্মিত ‘ভালোবাসি তাই ভালোবেসে যাই’ টেলিছবিটি দারুণ দর্শকপ্রিয়তা লাভ করে। তার মতে দর্শক সবসময় তার পাশে ছিল বলেই তিনি আজ তার কাঙ্ক্ষিত সীমানায় পৌঁছাতে পেরেছেন। এখন দর্শক পাশে থাকলেই তিনি স্বার্থক। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এবারও দর্শক তাকে নিরাশ করবেন না। কারণ দর্শকদের মন বুঝেই তিনি ছবিটি নির্মাণ করেছেন। তারা হলে আসবেন এবং ছবিটিকে বাঁচিয়ে রাখবেন।

Leave a Reply