এ্যানির দুর্নীতি মামলা ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ

Print Friendly, PDF & Email

[ A+ ] /[ A- ]

নিউজ ডেস্ক : অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও লক্ষীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলা বাতিল চেয়ে করা আবেদন (ফৌজদারি রিভিশন) খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে বিচারিক আদালতকে ৬ মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক এবং আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৪ সালের ৯ অক্টোবর শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। রাজধানীর রমনা থানায় (মামলা নম্বর-১৪) দুদকের উপ-পরিচালক মো. মঞ্জুর মোর্শেদ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ৪২ হাজার ৬৭০ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তথ্য গোপনের বিষয়ে মামলার এজাহারে বলা হয়, জমি ক্রয়ে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকা এবং লক্ষীপুরের কুশখালীতে তার নামে স্কুলে অনুদান বাবদ ১০ লাখ টাকাসহ মোট ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৯৪০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন তিনি, যা দুদক আইন-২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অন্যদিকে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জানা যায়, এ্যানির দেয়া তথ্য অনুসারে স্থাবর-অস্থাবর ও অপ্রদর্শিত সম্পদ মিলিয়ে মোট ৩ কোটি ৭৫ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৬ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন। যার মধ্যে দায় হিসেবে ৫০ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। অর্থাৎ দায় বাদ দিলে তার নিট সম্পদের পরিমাণ হয় ৩ কোটি ২৫ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৭ টাকা। যেখানে ২০১৩ সালের ৩০ জুনে দেয়া সম্পদ বিবরণী অনুসারে তার ১ কোটি ৭৬ লাখ ৯১ হাজার ৫৮৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

পরে ২০১৬ সালের ঐ বছরের ২৪ মে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত এ্যানির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। সে অভিযোগ গঠন আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করা হয়। এরপর একই বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট বিচারিক আদালতে থাকা মামলাটির কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিতসহ মামলার দায় হতে দরখাস্তকারীকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন।