হাসপাতালে নাজিব রাজাক

Print Friendly, PDF & Email

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাককে। ‘১ মালয়েশিয়া ডেভেলপমেন্ট বেরহাদ’ (১এমডিবি) তহবিল থেকে শত শত কোটি ডলার দুর্নীতির মামলার শুনানি ছিল আজ মঙ্গলবার। শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তার আইনজীবী মুহাম্মদ শাফি আবদুল্লাহ আদালতকে জানান, তার মক্কেল অসুস্থ। তার রক্তের চাপ উঠানামা করছিল। আগামী কয়েকদিন তার বেশ কিছু স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন। এ জন্য তাকে সোমবার ভর্তি করা হয়েছে কুয়ালালামপুর হাসপাতালে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন নিউ স্ট্রেইটস টাইমস।

আইনজীবী আদালতকে আরো বলেছেন, মামলার বিষয়ে তিনি নাজিব রাজাকের কাছ থেকে কোনো নির্দেশনা পাননি। কারণ, হাসপাতালে তাকে নাজিব রাজাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হয়নি। এ জন্য মঙ্গলবারের শুনানি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করেন আইনজীবী। তিনি আরও বলেন, তার মক্কেলকে মঙ্গলবারই স্থানান্তর করা হবে ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে।

এমন বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন করার পর মঙ্গলবারের শুনানী মুলতবি রাখার বিষয়ে আপত্তি করেননি ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মুস্তাফা পি. কুনালাম। ফলে বিচারক কোলিন লরেন্স সিকুইরাহ শুনানি মুলতবি করেন।

সোমবারই বলা হচ্ছিল, দুর্নীতির এই মামলার শুনানির আগের দিনই নাজিব রাজাকের রক্তচাপ উঠানামা করছিল। এরপর প্রধান প্রসিকিউটর গোপাল শ্রীরাম বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন। বলা হয়, সম্প্রতি তিনি যে চিকিৎসা নিয়েছেন তার কারণে তার রক্তচাপ পরিবর্তন হয়েছে। প্রিজন ডিপার্টমেন্ট থেকে তাকে জানানো হয়েছে, নতুন ওষুধের কারণে নাজিবের অবস্থা অনেক খারাপ। ওষুধে মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে তার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে পোস্ট দিয়েছেন নাজিব রাজাকের মেয়ে নূরায়না নাজওয়া। তিনি বলেছেন, শনিবার তার পিতা নাজিব রাজাককে কুয়ালালামপুর হাসপাতালে স্থানান্তরের পর তার পেটে নতুন করে আলসার ধরা পড়েছে। কমপক্ষে ১৫ বছর ধরে তার এমন সমস্যা বার বার দেখা দিচ্ছে। পরীক্ষা করার সময় চিকিৎসকরা তার বায়োপসি পরীক্ষা করেছেন। তাতে কয়েক স্থানে রক্তক্ষরণ হতে দেখা গেছে। রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে হবে। এ অবস্থায় জেল কর্তৃপক্ষ, হাসপাতাল এবং সরকারের কাছে সঠিক কাজটি করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন নূরায়না নাজওয়া। বলেছেন, নাজিব রাজাককে যেন যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা এবং পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।

১এমডিবি তহবিল থেকে কমপক্ষে ২৩০ কোটি রিঙ্গিত ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ৬৯ বছর বয়সী নাজিবের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই পরিমাণ অর্থ পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১টি অভিযোগের মুখোমুখি তিনি। এসব মামলার শুনানি শুরু হওয়ার কথা বুধবার।