প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫১৩

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : প্রথম দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল বলেছিলেন দ্বিতীয় দিন রান নেওয়া কঠিন হবে। তার ভবিষ্যৎবাণীই সত্যি হল। দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ফিরে গেলেন তিন ব্যাটসম্যান মুমিনুল, মোসাদ্দেক ও মিরাজ। তবে দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলেন মাহমুদউল্লাহ। সানজামুলকে সঙ্গে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের পনেরতম হাফ সেঞ্চুরি। তার হাফ সেঞ্চুরির উপর ভর করেই শেষ পর্যন্ত ৫১৩ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি আগের দিন ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো মুমিনুলও। মুশফিক-সাকিব-তামিমের পর দেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির করা সুযোগ ছিল তার। তবে শুরুতেই বিদায় নেন বাঁহাতি এই টেস্ট স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান। বাঁহাতি স্পিনার হেরাথের লেগ স্টাম্পের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন মুমিনুল। আগের দিনের ১৭৫ রানের সঙ্গে ১ যোগ করে সাজঘরে ফিরে যান টাইগার এই তারকা।

মুমিনুলের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারলেন না চোখে সমস্যা কাটিয়ে অনেকদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মোসাদ্দেক। ব্যক্তিগত ৮ রানে হেরাথের বলে সান্দাকানকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা এই ব্যাটসম্যান।

শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে নেমে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করতে থাকে মিরাজ। ঝুঁকি নিয়ে তিন রান নিতে গেলে তার চড়া মাশুল দিতে হল মিরাজকে। হেরাথের স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া বল মাহমুদউল্লাহ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে পাঠান সীমানার কাছাকাছি। সহজেই দুটি রান নিলেও তৃতীয় রান নেওয়ার পথে ক্রিজে পৌঁছতে ঝাঁপিয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু লাহিরু কুমারার থ্রো পেয়ে নিরোশান ডিকভেলা বেলস ফেলে দেওয়ার সময় একটু দূরেই ছিলেন তিনি।

মিরাজের বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহকে ভালোভাবেই সঙ্গ দিচ্ছিলেন সানজামুল। দুইজনে মিলে গড়েন ৫৮ রানের জুটি। তবে এরপরই সান্দাকানের বলে স্ট্যাম্পিং হয়ে সাজঘরে ফিরে যান এই তারকা। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। এরপরও হেরাথের বলে ১ রান করে বোল্ড হন তাইজুল। শেষ উইকেট জুটিতে মোস্তাফিজকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াদ ৩৫ রানের জুটি গড়লে ৫১৩ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। আউট হওয়ার আগে মোস্তাফিজ করেন ৮ রান। আর মাহমুদউউলাহ ৮৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে টসে জিতে প্রথম দিন ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালো করে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল আর ইমরুল কায়েস উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৭২ রান। দিলরুয়ান পেরেরার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তামিম বোল্ড হন ৫২ করে।

এরপর ৪০ রানে ভুল এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়েছেন ইমরুল কায়েস। লক্ষ্ণ সান্দিকানের বলে আম্পায়ার আঙুল তুলে দিলে রিভিউ নেয়ার সাহস করেনি বাংলাদেশ। অথচ টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্ট্যাম্পের অনেক ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছিল।

ইমরুল ফেরার পর বড় জুটি গড়েছেন মুমিনুল হক আর মুশফিকুর রহীম। ৯২ রান করে সুরাঙ্গা লাকমলের শিকার হন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। তাদের জুটিটি ছিল ২৩৬ রানের। তবে এ জুটি ভাঙার পরই কিছুটা বিপদে পড়েছে টাইগাররা। দ্রুত বিদায় নেন লিটন দাস। তবে দিনের বাকি সময় মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ভালোভাবেই পাড় করে মুমিনুল। তাতেই চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩৭৪ রান।

Be the first to comment on "প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৫১৩"

Leave a comment

Your email address will not be published.




twenty − three =