করুনারত্নেকে সাজঘরে ফেরালেন মিরাজ

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : বল হাতে শুরুতেই সাফল্য পেলেন মেহেদী মিরাজ। নিজের প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরান করুনারত্নেকে। অনেকটা বাইরের বল খেলতে ফিয়ে স্লিপে ইমরুলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কোন রান না করা এই ব্যাটসম্যান। উইকেটের দেখা পেতে পারতেন মোস্তাফিজও। তবে তার বেরিয়ে যাওয়া বল মেন্ডিসের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে ক্যাচ যায় স্লিপে। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে চেষ্টা করেছিলেন মিরাজ। কিন্তু মুঠোয় জমাতে পারেননি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১ উইকেট হারিয়ে ২৭ রান। কুশল মেন্ডিস ৮ ও ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ১৯ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

এর আগে ৪ উইকেটে ৩৭৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি আগের দিন ব্যাট হাতে আলো ছড়ানো মুমিনুলও। মুশফিক-সাকিব-তামিমের পর দেশের চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির করা সুযোগ ছিল তার। তবে শুরুতেই বিদায় নেন বাঁহাতি এই টেস্ট স্পেশালিষ্ট ব্যাটসম্যান। বাঁহাতি স্পিনার হেরাথের লেগ স্টাম্পের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দেন মুমিনুল। আগের দিনের ১৭৫ রানের সঙ্গে ১ যোগ করে সাজঘরে ফিরে যান টাইগার এই তারকা।

মুমিনুলের বিদায়ের পর খুব বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারলেন না চোখে সমস্যা কাটিয়ে অনেকদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা মোসাদ্দেক। ব্যক্তিগত ৮ রানে হেরাথের বলে সান্দাকানকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা এই ব্যাটসম্যান।

শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে নেমে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করতে থাকে মিরাজ। ঝুঁকি নিয়ে তিন রান নিতে গেলে তার চড়া মাশুল দিতে হল মিরাজকে। হেরাথের স্পিন করে বেরিয়ে যাওয়া বল মাহমুদউল্লাহ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে পাঠান সীমানার কাছাকাছি। সহজেই দুটি রান নিলেও তৃতীয় রান নেওয়ার পথে ক্রিজে পৌঁছতে ঝাঁপিয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু লাহিরু কুমারার থ্রো পেয়ে নিরোশান ডিকভেলা বেলস ফেলে দেওয়ার সময় একটু দূরেই ছিলেন তিনি।

মিরাজের বিদায়ের পর মাহমুদউল্লাহকে ভালোভাবেই সঙ্গ দিচ্ছিলেন সানজামুল। দুইজনে মিলে গড়েন ৫৮ রানের জুটি। তবে এরপরই সান্দাকানের বলে স্ট্যাম্পিং হয়ে সাজঘরে ফিরে যান এই তারকা। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। এরপরও হেরাথের বলে ১ রান করে বোল্ড হন তাইজুল। শেষ উইকেট জুটিতে মোস্তাফিজকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াদ ৩৫ রানের জুটি গড়লে ৫১৩ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। আউট হওয়ার আগে মোস্তাফিজ করেন ৮ রান। আর মাহমুদউউলাহ ৮৩ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে টসে জিতে প্রথম দিন ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালো করে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল আর ইমরুল কায়েস উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৭২ রান। দিলরুয়ান পেরেরার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে তামিম বোল্ড হন ৫২ করে।

এরপর ৪০ রানে ভুল এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়েছেন ইমরুল কায়েস। লক্ষ্ণ সান্দিকানের বলে আম্পায়ার আঙুল তুলে দিলে রিভিউ নেয়ার সাহস করেনি বাংলাদেশ। অথচ টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় বল স্ট্যাম্পের অনেক ওপর দিয়ে চলে যাচ্ছিল।

ইমরুল ফেরার পর বড় জুটি গড়েছেন মুমিনুল হক আর মুশফিকুর রহীম। ৯২ রান করে সুরাঙ্গা লাকমলের শিকার হন উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। তাদের জুটিটি ছিল ২৩৬ রানের। তবে এ জুটি ভাঙার পরই কিছুটা বিপদে পড়েছে টাইগাররা। দ্রুত বিদায় নেন লিটন দাস। তবে দিনের বাকি সময় মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ভালোভাবেই পাড় করে মুমিনুল। তাতেই চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৩৭৪ রান।

Be the first to comment on "করুনারত্নেকে সাজঘরে ফেরালেন মিরাজ"

Leave a comment

Your email address will not be published.




6 − two =