সামাদের সহযোগিতায় নব্য জেএমবি গঠন করে তামিম চৌধুরী

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : কানাডা থেকে ২০১৩ সালের অক্টোবরে দেশে ফিরেই তামিম চৌধুরী নতুন জঙ্গি গঠনের চেষ্টা করেন। তখন তিনি দেশের অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০১৪ সালে জেএমবির আব্দুস সামাদ ওরফে আরিফ মামু ওরফে আশিকের সঙ্গে তামিমের পরিচয় হয়। মূলত: তার হাত ধরেই তামিম চৌধুরী নব্য জেএমবি গঠন করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর মহাখালী থেকে আব্দুস সামাদ, জিয়াদুল ইসলাম ও আজিজুল ইসলাম নামে নব্য জেএমবির তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২০০টি ডেটোনেটর, ১টি পিস্তল ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, দিনাজপুরের বাসিন্দা সামাদ ২০১০ সালে জেএমবিতে যোগ দেন। দেলোয়ার মিস্ত্রী ও শহীদুল ইসলাম খালিদের মাধ্যমে ২০১৪ সালে তামিমের সঙ্গে দেখা হয় সামাদের। নতুন দল গঠনের পর সে অনেকগুলো ট্রেনিং ক্যাম্প ঘুরে ঘুরে বক্তব্য দিয়ে সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করত। সামাদের বাড়ি উত্তরবঙ্গ হওয়ায় এবং সেই এলাকা নতুন সদস্য রিক্রুটের উপযুক্ত মনে করায় সামাদকে একটা সময় উত্তরবঙ্গে পাঠিয়ে দেন তামিম।

তামিম চৌধুরী হন নব্য জেএমবির প্রধান এবং সামাদকে সেকেন্ড ইন-কমান্ড করে ‘জুনুদ আল তৌহিদ আল খিলাফা’ নামে দল গঠন করে। সামাদ জেএমবির শুরু থেকে জড়িত থাকায় তার সঙ্গে অনেকের পরিচয় ছিল। নব্য জেএমবি গঠনে সেসব অভিজ্ঞতা ও নতুন করে নব্য জেএমবিতে পুরাতনদের যোগ দানে তামিম চৌধুরী সামাদের সহযোগিতা নেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনগুলোর আদর্শে প্রভাবিত হয়ে তারা নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করেন। পরে নব্য জেএমবি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

তামিম চৌধুরী দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পরেও দেশে ফিরে অত্যন্ত কম সময়ে নব্য জেএমবি গঠনের পেছনে সামাদের বড় অবদান ছিল। সদস্য সংগ্রহে সামাদ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেছে।

সামাদ নেতৃত্বপর্যায়ের হওয়ায় কোনো অপারেশনে তার সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হলি আর্টিজান ঘটনার আগেই তাকে উত্তরবঙ্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল। তাই সেই ঘটনাতেও তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যেসব অস্ত্র তারা ঢাকায় নিয়ে এসেছে সেগুলো কারও কাছে হস্তান্তরের জন্য আনা হয়েছিল। তবে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান মনিরুল ইসলাম।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, আটক চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা জিয়াদুল ইসলাম সামাদের শ্বশুর। নব্য জেএমবির অস্ত্র সরবরাহকারী ছোট মিজান ও সোহেল মাহফুজের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে আনা অস্ত্র ও ডেটোনেটরগুলো জিয়াদুল তার মাছের খামারে লুকিয়ে রাখত।

নব্য জেএমবির সদস্য সংখ্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নব্য জেএমবির হাজার হাজার সদস্য সংখ্যা ছিল না। হলি আর্টিজান ও শোলাকিয়ার ঘটনার বাইরে একজনই এক থেকে সর্বোচ্চ ২২টি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

হলি আর্টিজান হামলা পরবর্তী সময়ে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন নব্য জেএমবির সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৮০ জন মারা গেছে। তবে সংগঠনটি এখন বিপর্যস্ত, তাদের নতুন কোনো ঘটনা ঘটানোর ক্ষমতা নেই দাবি করেন মনিরুল ইসলাম।

Be the first to comment on "সামাদের সহযোগিতায় নব্য জেএমবি গঠন করে তামিম চৌধুরী"

Leave a comment

Your email address will not be published.




eleven − 8 =