মাকসুদাকে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : সন্তান প্রসবের সময় প্রসূতির পেটে গজ রেখে অস্ত্রোপচারের ঘটনায় ভিকটিম মাকসুদাকে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ওই ঘটনায় নিরাময় ক্লিনিকের মালিককে দিতে হবে ৪ লাখ টাকা এবং ভুয়া চিকিৎসক রাজন দাস ওরফে অর্জুন চক্রবর্তীকে দিতে হবে বাকি ৫ লাখ টাকা।

বুধবার বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে এ সময় নিরাময় ক্লিনিকের মালিক আনিসুর রহমান এবং ভুয়া চিকিৎসকের সহকারী তোফায়েল সিকদার ওরফে মিশু সিকদার উপস্থিত ছিলেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাঙ্ক শেখর সরকার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জেসমিন সামসাদ। পটুয়াখালীর সিভিল সার্জনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শামসুদ্দিন বাবুল। ভিকটিম মাকসুদা বেগমের পক্ষে শুনানি করেন ইমরান এ সিদ্দিক।

অপরদিকে ক্লিনিকের পরিচালক ও নার্সের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. নজরুল ইসলাম। চিকিৎসকের সহকারী তোফায়েল সিকদারের (মিশু সিকদার) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আইলাদ হোসেন। আর ভুয়া ডাক্তার রাজন দাসের পক্ষে ছিলেন নুরুল ইসলাম সুজন ও গোলাম নবী।

১১ ডিসেম্বর অর্জুন চক্রবর্তী আত্মসমর্পণের পর ভুয়া চিকিৎসক রাজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিরাময় ক্লিনিকের মালিক, ভুয়া চিকিৎসক অঞ্জুন চক্রবর্তী ওরফে রাজন দাস, নার্স ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেন আদালত।

এর আগে ওই চিকিৎসকের লাইসেন্স ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় গত ৬ নভেম্বর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তাকে আটক করে হাইকোর্টে হাজির করতে বাউফল থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

পরে ১৫ নভেম্বর বাউফল থানার ওসি আদালতকে জানান, চেষ্টা করেও তারা ভুয়া চিকিৎসক রাজন দাসকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ওইদিন আদালত রাজন দাসকে গ্রেফতারের জন্য ওসিকে প্রয়োজনে র্যাবের সহযোগিতা নিয়ে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে হাজির করতে বলেন।

১০ ডিসেম্বর রোববার রাজনের আইনজীবীর সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরেরদিন তাকে হাজির করতে বলেন আদালত। কিন্তু সেই ভুয়া চিকিৎসক নিজেই সোমবার আদালতে আত্মমর্পন করলে আদালত এ আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত গত ২২ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সাড়ে তিন মাস পর পেট থেকে বের হল গজ!’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরদিন ২৩ জুলাই প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদ উল্লাহ।

তিনি জানান, ওই পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘অস্ত্রোপচারের সাড়ে তিনমাস পর বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রসূতি মাকসুদা বেগমের (২৫) পেট থেকে গজ বের করা হয়েছে। মুমূর্ষু ওই নারীকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পেটের ভেতর গজ থাকায় খাদ্যনালিতে অনেকগুলো ছিদ্র হয়ে গেছে’।

মাকসুদা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিলবিলাস গ্রামের মো. রাসেল সরদারের স্ত্রী। গত মার্চে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দেন তিনি। তখন তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দিয়েছিলেন ‘চিকিৎসক’।

Be the first to comment on "মাকসুদাকে ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ"

Leave a comment

Your email address will not be published.




twenty + 8 =