আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে কারাগারে প্রেরণ

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক :  বনানী ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত সাফাত আহমেদের বাবা ও আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম এবং আরও দুই মালিক গুলজার আহমেদ এবং আজাদ আহমেদকে মুদ্রা পাচার অভিযোগে দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার একদিনের রিমান্ড শেষে তাদের ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাদের মামলার তদন্ত শেষে না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী আসামি দিলদার ও ঢাকা মহানগর হাকিম দেব্রবত বিশ্বাস আসামি গুলজার আহমেদ এবং আজাদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে ২ নবেম্বর ঢাকার পৃথক দুটি আদালত তাদের বিরুদ্ধে একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এদিন তাদের তিনজনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে শুল্ক গোয়েন্দা। এ সময় রমনা থানার মামলায় দিলদারের বিরুদ্ধে তিনদিনের এবং অপর দুই ভাই গুলজার ও আজাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানার পৃথক দুই মামলায় তিনদিন করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবী আসামি দিলদারের একদিন এবং ঢাকা মহানগর হাকিম একেএম মাঈন উদ্দিন সিদ্দিকী আসামি গুলজার ও আজাদের একদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
২৪ অক্টোবর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রমনা থানা, উত্তরা পূর্ব থানা ও ধানমন্ডি থানার তিন মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন দিলদার আহমেদ সেলিম।
অপরদিকে গুলশান থানার দুই মামলায় অপর দুই মালিক গুলজার আহমেদ এবং আজাদ আহমেদ আত্মসমর্পণ করে আদালতে জামিন চান। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন। এর আগে তাদের তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
আপন জুয়েলার্সের বিরুদ্ধে শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার মজুদের অভিযোগে কাস্টমস অ্যাক্ট- ১৯৬৯ অনুযায়ী কাস্টম হাউস ঢাকায় আরও পাঁচটি কাস্টমস মামলা বিচারাধীন।
এ ছাড়া স্বর্ণালঙ্কার মজুদ, মেরামত, তৈরি, বিক্রয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ে সংঘটিত ভ্যাট ফাঁকি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট কমিশনারেটগুলো কাজ করছে। আয়কর নথিতে অপ্রদর্শিত স্বর্ণ দেখানোর কারণে সংশ্লিষ্ট আয়কর জোনের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
আপন জুয়েলার্সের অন্যতম মালিক দিলদার হোসেনের ছেলে সাফাত কয়েক সহযোগীকে নিয়ে রাজধানীর বনানীতে একটি জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া দুই তরুণীকে ধর্ষণ করেন- এমন অভিযোগ ওঠার পর আলোচায় আসে আপন জুয়েলার্সের দুর্নীতি। এরপরই মামলা দায়ের হতে থাকে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

Be the first to comment on "আপন জুয়েলার্সের তিন মালিককে কারাগারে প্রেরণ"

Leave a comment

Your email address will not be published.




eighteen + 3 =