এমপি রানার জামিন স্থগিত

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলার আসামি টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানার জামিন মঞ্জুর করেনি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে এমপি আমানকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিতই থাকলে আপিল বিভাগে।

একই সঙ্গে এমপি আমানুর রহমান খান রানার জামিন কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে জারি করা হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞার নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের বেঞ্চ রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন স্থগিত করে এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সঙ্গে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ। এমপি রানার পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান।

এর আগে গত রোববার (১৫ অক্টোবর) একই বেঞ্চ জামিন স্থগিতের আদেশ বহাল রেখে জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আজকের (১৯ অক্টোবর) তারিখ ধার্য করেছিলেন। আজ শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামিন স্থগিত রাখেন আপিল বিভাগ।

গত ২৩ আগস্ট প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আপিল বিভাগ জামিন শুনানির জন্য ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি (স্ট্যান্ড ওভার) রেখেছিলেন।

এর আগে গত ১৩ এপ্রিল ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খানকে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আমানুর রহমান খানকে কেন জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেছিলেন আদালত। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইকে চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মেদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে আত্মসমার্পণ করে জামিন আবেদন করেন রানা। বিচারক আবুল মনসুর মিয়া তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে শহরের কলেজপাড়া এলাকার নিজ বাসার কাছ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মেদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর ফারুকের স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাসহ ১৪ জনকে আসামি করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

গত ৬ এপ্রিল আসামিদের গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেন আদালত। টাঙ্গাইলের সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আমিনুল ইসলাম এ আদেশ দেন।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- রানার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান খান মুক্তি, জেলার সাবেক ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- আনিসুল ইসলাম রাজা, কবির হোসেন, সাবেক কমিশনার মাসুদ মিয়া, চান, নুরু, সানোয়ার হোসেন, দাঁতভাঙা বাবু, ফরিদ হোসেন, আবদুল হক ও সমির হোসেন।

আসামিদের মধ্যে আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী ও সমির হোসেন আগেই গ্রেফতার হয়ে টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন। আসামি ফরিদ হোসেন কিছুদিন আগে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। আর আসামি আবদুল হক পলাতক অবস্থায় কয়েক মাস আগে দুষ্কৃতকারীদের হাতে নিহত হন।

Be the first to comment on "এমপি রানার জামিন স্থগিত"

Leave a comment

Your email address will not be published.




nine + 3 =