সাজেদা চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলা

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় নগরকান্দা থানায় দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে হামলার ওই ঘটনায় আজ শনিবার মামলা দুটি হয়।

একটি মামলার বাদী হলেন নগরকান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুয়ামূন কবির। তিনি বাদী হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে একটি মামলা করেন। অপরদিকে নগরকান্দা ফুলসুতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ ইসলাম বাদী হয়ে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অনেককে আসামি করে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা করেছেন। এই দুটি মামলায় নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জামাল হোসেন মিয়া ও তাঁর ভাই ফরিদপুর জেলা পরিষদের নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. কামাল হোসেন মিয়াকে আসামি করা হয়েছে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম বলেন, এ মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মজিবর মিয়া (৪০), মো. সেলিম (১৯) ও মো. সজিব (২০)। তাদের দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বর্তমানে সালথা উপজেলার রসুলপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। আজ শনিবার বেলা ১১টা ও দুপুর ১২টায় সালথা জেলা মিলনায়তন ও পাশে নগরকান্দা উপজেলা মিলনায়তনে কৃষকদের মধ্যে ঋণ ও কৃষিপণ্য বিতরণ করার কথা। এ কর্মসূচি শেষে দুপুরে সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।

গতকাল সাজেদা চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রসুলপুরে সাজেদা চৌধুরীর বাসভবনের সামনে হাজির হয়। নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজেদ চৌধুরীর ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরী তাঁদের শান্ত করতে বলেন, জাতীয় সংসদের উপনেতার ওপর হামলার ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত ও নজিরবিহীন। এ ঘটনা আমাদের হতবিহ্বল করেছে। ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। এ অবস্থায় আমাদের সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

নগরকান্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত থেকে বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি করা হলেও নতুন করে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযান চলছে।

গতকাল শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে ফরিদপুরের নগরকান্দায় তালমার মোড় এলাকায় সাজেদা চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলার চালানোর অভিযোগ ওঠে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি ছুড়ে। পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আহত হন নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাজেদা চৌধুরী দুই দিনের সফরে শুক্রবার দুপুরে সালথায় আসছিলেন। এ উপলক্ষে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে নগরকান্দার তালমার মোড় এলাকায় নেত্রীকে স্বাগত জানাতে দলীয় নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন। ওই সময় সাজেদা চৌধুরীর সমর্থক বলে পরিচিত একদল লোক আগামী সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন মিয়ার পোস্টার ও তোরণ ভাঙচুর করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ভাঙচুরের খবর পেয়ে জামালের সমর্থকেরা সমবেত হয়ে তালমার মোড়ে পেট্রলপাম্প এলাকায় অবস্থান নেন। সাজেদার চৌধুরীর সমর্থকেরা তালমার মোড় হয়ে নগরকান্দায় ঢোকার সড়কের মুখে অবস্থান নেন। পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ এড়াতে দুই পক্ষের মধ্যে অবস্থান নেয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা আড়াইটার দিকে সাজেদা চৌধুরীর গাড়িবহর তালমার মোড় অতিক্রম করার সময় পেট্রল পাম্পের সামনে অবস্থানরত জামালের সমর্থকেরা গাড়িবহর লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করেন। ইটের আঘাতে নগরকান্দা সার্কেল এএসপি মহিউদ্দিনের মাইক্রোবাসের কাচ ভেঙে যায়। এ ছাড়া সাজেদা চৌধুরী ও তাঁর ছেলে আয়মন আকবর চৌধুরীর গাড়িতে ইট লাগে। তবে তাঁদের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি।

Be the first to comment on "সাজেদা চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলা"

Leave a comment

Your email address will not be published.




20 + twenty =