যদি সত্য না হত,এ সমস্ত কথা বলা কি সম্ভব হত?

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : ‘প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তার সহকর্মীরাই তার সঙ্গে বেঞ্চে বসতে চাননি। এতে সরকারের কোনো ভূমিকা নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম।

প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ভিত্তি আছে বলেও মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত অভিযোগ আনা হয়েছে, যদি কোনো রকম সত্য না হত, দেশের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এ সমস্ত কথা বলা কি সম্ভব হত?’

শনিবার সন্ধ্যায় অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার পরদিন তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার, নৈতিক স্খলনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনেন সুপ্রিম কোর্ট। রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মেরও অভিযোগ আনা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম, অর্থ পাচার ও নৈতিক স্খলনসহ ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সহকর্মীরা প্রধান বিচারপতির কাছে এর ব্যাখ্যা চাইলে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। এ কারণে সহকর্মীরা তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর থেকে সমালোচনার মুখে থাকা প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়া নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।

অসুস্থতার কারণে তিনি ছুটি নিয়েছেন বলে আইনমন্ত্রী জানালেও বিচারপতি এস কে সিনহা শুক্রবার বিদেশ যাওয়ার আগে তার বাসার সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের বলে গেছেন, ‘তিনি অসুস্থ নন বরং সরকারের আচরণে বিব্রত হয়ে ছুটি নিয়েছেন।’

এদিকে বিএনপির অভিযোগ প্রধান বিচারপতিকে জোর করে ছুটি দিয়ে বিদেশ যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল এ প্রসঙ্গে বলেন, তাকে সরানোর বা বেঞ্চে না বসার ব্যাপারে সরকারের কোনো ভূমিকাই নেই।

‘বরং প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে যে সমস্ত অভিযোগ রাষ্ট্রপতির কাছে শুনেছেন, বেঞ্চের অন্যান্য মাননীয় বিচারপতি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসতে অনীহা প্রকাশ করেছেন, অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ফলে বাধ্য হয়ে উনি (প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কমুার সিনহা) ছুটি নিয়েছেন।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘দেশবাসীর জানা উচিত, সরকার তাকে বসার বিষয়ে কোনো রকম বিরত করেনি। বরং তার সম্পর্কে কিছু তথ্য-উপাত্ত পেয়ে তার সহকর্মী বিচারপতিরা তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসতে চাননি। এটা হলো বাস্তব অবস্থা এবং এজন্যই তাকে ছুটি নিতে হয়েছে।’

গত জুলাই মাসে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় দেয়ার পর থেকে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সমালোচনার মুখে থাকা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে সংসদে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছিলেন কয়েকজন মন্ত্রী।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করা হবে বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছেন আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মতিন খসরু।

Be the first to comment on "যদি সত্য না হত,এ সমস্ত কথা বলা কি সম্ভব হত?"

Leave a comment

Your email address will not be published.




two × 4 =