দুদকের ছয় অনুবিভাগের সঙ্গে ইউএনওডিসির পৃথক বৈঠক

Print Friendly, PDF & Email

নিউজ ডেস্ক : ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস এ্যান্ড ক্রাইম (ইউএনওডিসি) এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর ৬টি অনুবিভাগের আলাদা আলাদা বৈঠক হয়েছে। মঙ্গলবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

কমিশনের প্রশাসন, তদন্ত, বিশেষ তদন্ত, মানিলন্ডারিং, লিগ্যাল ও প্রতিরোধ অনুবিভাগের মহাপরিচালকরা প্রতিটি অনুবিভাগের নেতৃত্ব দেন। প্রতিটি অনুবিভাগ তাদের কার্যক্রম, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।

ইউএনওডিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এ্যান্টি-করাপশন এডভাইজার জোরানা মার্কোভিস কমিশনের প্রতিটি অনুবিভাগ কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

দুইদিনের দ্বি-পাক্ষিক সমাপনী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

তিনি কমিশনের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বিশেষ করে দুদক দর্পণ, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান অভিনীত তথ্য চিত্র, কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬, পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা, কমিশন কর্তৃক বিতরণের জন্য তৈরিকৃত বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণের প্রশংসা করে বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলে বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের এ সকল কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই অভূতপূর্ব কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। এরপর দুপুর সাড়ে বারটায় জোরানা মার্কোভিস কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬ এর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি কমিশনের অভিযোগকেন্দ্রের হটলাই-১০৬ এর প্রযুক্তিগত বিষয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন। এসময় দুদক সচিব ড. মো. শামসুল আরেফিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, কমিশনের মূল শক্তি হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য তাদের কেউ কেউ শীতনিদ্রায় ছিলেন। তবে আজকে আমার মনে হচ্ছে তাদের অনেককেই বৃত্তের বাইরে আনতে সক্ষম হয়েছি। সবাই এখন কর্মব্যস্ত।

তিনি বলেন, দুর্নীতি দমনে এখন একটা উপযুক্ত সময় কারণ সরকার বিশেষ করে কেবিনেট ডিভিশন কমিশনকে সকল বিষয়েই সহযোগিতা করছে। সম্প্রতি দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করা হয়েছে এবং তাদেরকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার বলে কমিশন মনে করে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিরোধমূলক কাজে কিছুটা উদ্ভাবনী অভিগমন থাকলেও তদন্ত কিংবা প্রসিকিউসনে উদ্ভাবনী চিন্তা নেই বললেই চলে। প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট টাইমলানে অভিযোগের তদন্ত এবং অনুসন্ধান সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন এক্ষেত্রে ইউএনওডিসি সহ বিভিন্ন সংস্থার বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমাদের তদন্ত বা অনুসন্ধানে নতুন পদ্ধতি সংযোজনের সময় এসেছে।

তিনি বলেন দুর্নীতিপরায়ণদের ধরে ধরে জেলখানায় পাঠানেই তদন্ত হতে পারে না বরং কেন দুর্নীতি ঘটছে তাও তদন্ত প্রতিবেদনে থাকা উচিৎ। এতে সমাজে বোধ সৃষ্টি হতো দেশের দুর্নীতির কারণ উন্মোচিত হতো। সুশাসনের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের পথ সুগম হতো এবং দুর্নীতি বন্ধ করা যেত।

তিনি আরও বলেন ইউএনওডিসি’র সঙ্গে সম্পর্ক এখানেই শেষ নয় বরং সম্পর্ক শুরু। আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার নিকট আমাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সহযোগিতা চাই।

ইউএনওডিসির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এ্যান্টি-করাপশন এডভাইজার জোরানা মার্কোভিস বলেন, কমিশনের সঙ্গে ইউএনওডিসির সম্পর্কের শুভ সূচনা হলো। জ্ঞান বিনিময়, উত্তম চর্চ এবং বিভিন্ন প্রকাশনার ক্ষেত্রে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করা যেতে পারে। তিনি বলে সুনির্দিষ্ট এবং গঠনমূলক প্রস্তাব পাওয়া গেলে এজাতীয় প্রশিক্ষণে বিশেষজ্ঞদের দুদকে এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

Be the first to comment on "দুদকের ছয় অনুবিভাগের সঙ্গে ইউএনওডিসির পৃথক বৈঠক"

Leave a comment

Your email address will not be published.




5 × four =